
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পর্যালোচনা শেষে বিলটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সচিবালয়ের প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন যুক্ত করে বিলটি সংসদে উপস্থাপনের বিষয়ে সদস্যরা ঐকমত্যে পৌঁছান।
বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অতীত ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ও উঠে আসে। বৈঠকে বলা হয়, অতীতে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে বিভিন্নভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে।
‘অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনী বিলুপ্ত নয়’
তবে কোনো বাহিনীকে অতীতে অপব্যবহার করা হয়েছে—শুধু এই কারণ দেখিয়ে পুরো বাহিনী বিলুপ্ত করে দেওয়াকে যথাযথ সমাধান মনে করেন না স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
তাদের মতে, বাহিনীর দক্ষ জনবল, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং মূল্যবান সরঞ্জামকে দেশের স্বার্থে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। তাই নতুন বা পুনর্গঠিত বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সক্ষমতাগুলোকে কাজে লাগানোর বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন অথবা পুনর্গঠিত বাহিনীতে দায়িত্ব পাওয়া সদস্যদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে।
ওই কর্মসূচির সময় বাহিনীর সদস্যরা যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন, তার প্রশংসা করেন কমিটির সদস্যরা। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদও জানানো হয়।
দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে ভবিষ্যতেও একই ধরনের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এ ছাড়া বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।