
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর দাবি, এই কেনাকাটার কারণে সরকারের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো বড় আর্থিক চাপ তৈরি হবে না।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের অনুরোধের পর ১৪ বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত
এর আগে গত ৩১ অগাস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, এর পাশাপাশি আরও কিছু উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু বোয়িং নয়, ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকেও উড়োজাহাজ কেনা হবে বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।
‘পেমেন্ট ধাপে ধাপে অনেক দিন পর্যন্ত চলবে’
বোয়িংয়ের কাছ থেকে একসঙ্গে এতগুলো উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করবে কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয় তথ্য উপদেষ্টাকে।
জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতির অবস্থা ভালো ছিল না। একই সঙ্গে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার অর্থও একবারে পরিশোধ করতে হবে না।
তিনি বলেন, সরকার খুবই খারাপ অর্থনীতি হাতে পেয়েছে, এটা ভুল না। এটা হলো এক। দুই হচ্ছে, যে বোয়িং কেনার কথা হচ্ছে, এই বোয়িংগুলোর পেমেন্ট এখন থেকে ধাপে ধাপে অনেক দিন পর্যন্ত এই পেমেন্ট হতে থাকবে এবং এই বোয়িংগুলো হাতে পাওয়া আমাদের জন্য লম্বা সময়ের ব্যাপার।
অর্থাৎ, উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর পুরো অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধের প্রয়োজন হবে না বলে বোঝান তিনি। অর্থ পরিশোধ দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে চলবে এবং উড়োজাহাজগুলোও দ্রুত হাতে পাওয়ার বিষয় নয়।
বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের কারণে দেশের অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও স্পষ্ট করেন তথ্য উপদেষ্টা।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমরা কেউ যদি মনে করছি যে, আমাকে এক্ষুণি বা খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক টাকা দিয়ে দিতে হবে, ব্যাপারটা মোটেই তা না। একটা রাষ্ট্র তার প্রয়োজন অনুযায়ী চলবে। রাষ্ট্র তার ক্রাইসিস থাকলেও তার কিছু কিছু প্রয়োজন সে মেটাবে। সুতরাং নতুন যে বোয়িংয়ের অর্ডার রয়েছে, এটার কোনো ইমিডিয়েট এফেক্ট নাই।’
তিনি মূলত বোঝাতে চান, অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও একটি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ব্যয় ও সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে থাকে না। সেই বিবেচনায় নতুন বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বাঁধনের ওপর হামলা নিয়ে সরকারের অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার মাধ্যমে নিজেদের চরিত্র উন্মোচন করেছে আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রক্রিয়া প্রয়োজন, সরকার তা শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, এ ঘটনাকে কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।