
দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পর দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতিতে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে শুধু বাজার তদারকির মাধ্যমে পণ্যের দাম কমানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য, ঋণের সুদ, উৎপাদনশীলতা, পরিবহন ও অবকাঠামোর মতো বিভিন্ন বিষয় জড়িত।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ। যেখানে আন্তর্জাতিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে উৎপাদনস্থল থেকে খুচরা বাজারে পণ্য পৌঁছাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়ে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি এবং দক্ষ সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
দ্রব্যমূল্য কমানোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ফল প্রত্যাশা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন। নতুন এলএনজি অবকাঠামো তৈরি, গ্যাস সরবরাহ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ ও সবজির মৌসুমি মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন বাড়লেও বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়। এই মৌসুমি ব্যবধান কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় কন্ট্রাক্ট ফার্মিংসহ পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি, অবকাঠামো, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া গেলে বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়বে। এর ফলে ধীরে ধীরে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।