
রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা—বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, রাস্তায় বসে ভাঙচুর ও অস্থিরতা তৈরির বদলে জনগণের কল্যাণে কার্যকর কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা তৈরির রাজনীতি ছেড়ে জনগণের জন্য কাজ করুন। আপনাদের কাছে যদি জ্বালানি বা বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে, তবে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। যদি আপনাদের পরিকল্পনা ৬ মাসের মধ্যেও সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে সরকার তা সানন্দে বাস্তবায়ন করবে।’
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় রূপান্তর করা হবে। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুরা নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো যাতে মানুষ বিদেশে যেতে বাধ্য হয়, কিন্তু বর্তমান সরকার দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।’
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা রেখে গিয়েছে এবং জ্বালানি আমদানির অবকাঠামো তৈরি করেনি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাপেক্সকে দেশের মাটিতে গ্যাস খননের নির্দেশ দিয়েছি। দুর্ঘটনাজনিত কারণে একটি এলএনজি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’
সম্প্রতি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘কিছু দলকে দেখা যাচ্ছে হারিকেন সামনে নিয়ে প্রতিবাদ করছে, অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে। এই হঠকারিতা জনগণ এখন আর পছন্দ করে না। ১৭ বছর যখন মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে, তখন এসব নেতাকে রাজপথে দেখা যায়নি।’
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের যে ৪০ কোটি হাত আছে, সেগুলোকে শ্রমিকের নয় বরং দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। আমি নিজে কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারলাম—সেটিই বড় সার্থকতা।’
বক্তব্যের শেষ দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।