
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে সংসদ ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সাল কামাল। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং ভোট দেওয়ার নিয়ম তুলে ধরেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের মতো গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে না। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। এ নির্বাচনে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের ভোট হবে একটি করে।
ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি পৃথক অংশ থাকবে—কাউন্টার ফয়েল ও আউটার ফয়েল।
কাউন্টার ফয়েলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম এবং তার নির্ধারিত বিভক্তি নম্বর ছাপানো থাকবে। একই অংশে ভোটারের স্বাক্ষরের জন্য নির্দিষ্ট জায়গাও রাখা হবে।
অন্যদিকে আউটার ফয়েলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে পৃথক ঘরে মুদ্রিত থাকবে। প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে ভোট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকবে। এ অংশে ভোটারের বিভক্তি নম্বরও উল্লেখ করা থাকবে।
ভোট দেওয়ার সময় প্রথমে সংসদ সদস্যকে তার নির্ধারিত ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েলে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর ব্যালটের আউটার ফয়েলে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
স্বাক্ষর শেষ করার পর ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
অর্থাৎ, এ নির্বাচনে সাধারণ গোপন ভোটের মতো ব্যালটে কোনো টিক চিহ্ন বা সিল ব্যবহার করা হবে না। যে প্রার্থীকে সংসদ সদস্য ভোট দেবেন, তার নামের পাশে নিজের নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ফলে কার ভোট কোন প্রার্থীর পক্ষে দেওয়া হয়েছে, তা স্বাক্ষরের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনে ‘বিভক্তি নম্বর’-এরও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে যে নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া হয়, সেটিই তার বিভক্তি নম্বর।
অন্যদিকে ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়ি বাদ দেওয়ার পর যে অংশটি অবশিষ্ট থাকে, সেটিকে আউটার ফয়েল বলা হয়।
এই পদ্ধতিতেই সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে।