
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদেরকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে দেশ বর্তমানে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। তার ভাষ্য, বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অর্থ দেশেই থাকলে বহু সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো। বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে যেসব সংকট দ্রুত নিরসন করা সম্ভব, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এখনো দেশে অসংখ্য সমস্যা রয়ে গেছে, যা তাকে বিস্মিত করে। তার মতে, গত ১৭ বছরে এসব সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা ছিল। উন্নয়নের যে চিত্র এতদিন তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব চাপ এখন বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। বৈষম্যহীন, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রথম সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতও আগের সরকারের আমলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার অভিযোগ, একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যক্রম শুরু হয় এবং সে সময় ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বিএনপি সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই এসব হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় এগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে সেগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলেও সেগুলোর কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত কর কমানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।