
নতুন অর্থবছর শুরু হলেও নবম পে স্কেলের গেজেট এখনও প্রকাশ হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নীতিগত কোনো বিলম্ব নয়। প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করতেই অতিরিক্ত সময় লাগছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পে স্কেলের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রাজস্ব আয়ের চাপ, বাজেট ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের দায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে আগের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত বলে মনে করছে সরকার।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ কয়েকটি সুবিধার কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সরকারের অবস্থান হলো, নবম পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর ওই তারিখ থেকেই বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন পে স্কেল একসঙ্গে কার্যকর না করে দুই অর্থবছরে সর্বোচ্চ তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। এরপর আগামী অর্থবছরের শুরুতে বাড়িভাড়া এবং একই অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য ভাতা কার্যকরের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে সচিব কমিটির আলোচনায় গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি এবং গ্রেড ১ থেকে ১০ পর্যন্ত কম হারে বাড়ানোর সুপারিশও গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেতন সফটওয়্যার হালনাগাদ, হিসাবরক্ষণ, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়সহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এসব সমস্যা কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়ে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি কাজ করছে।
গত সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির পঞ্চম বৈঠকে পে স্কেলের বিষয়টি নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, পে স্কেল দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তাই প্রতিটি সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও আইনগত দিক পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে পারে। এর আগে আরও দুটি বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়ন কৌশল এবং ধাপভিত্তিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সচিব কমিটির সুপারিশ জমা দেওয়ার পর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সরকারি গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে নবম পে স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।