
দেশের ছয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
প্রশাসনিক এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকার পাশাপাশি দেশের আরও পাঁচটি স্পর্শকাতর এলাকায় সেনাসদস্যরা সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন। অঞ্চলগুলো হলো— ঢাকা মেট্রোপলিটন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা। আজ ২২ জুন সোমবার থেকে শুরু করে আগামী ৩০ জুন মঙ্গলবার পর্যন্ত এই বিশেষ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে কার্যকর থাকবে।
যেসব কারণে এই বিশেষ সতর্কবার্তা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশের নানা প্রান্তে বেআইনিভাবে ঝটিকা মিছিল, রাজনৈতিক শোডাউন এবং বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর গোপন ছক কষছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূলত এই সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা রুখতেই সরকার আগেভাগে এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আজ সোমবার গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশ্বস্ত করে জানান যে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ধরনের অবনতি ঘটেনি; বরং বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।
সেনা মোতায়েনের মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, "মূলত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অতৎপরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় সেনাসদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে।"