
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ভবিষ্যতে সংসদে কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে আনুষঙ্গিক সব বিষয় ভালোভাবে ‘স্টাডি’ বা পর্যালোচনা করে নেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত: আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ
অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি মন্ত্রীর আগের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন:
"মাননীয় মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, ১ মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। এরপরে আরও এক মাস তিন-চার দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে আমরা গ্যাসের সাপ্লাই পাইনি।"
রুমিন ফারহানা প্রশ্ন রাখেন, আশুগঞ্জ সার কারখানায় আসলে কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে?
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশে চলমান গ্যাসের তীব্র সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন:
অগ্রাধিকার পরিবর্তন: "উনি (রুমিন ফারহানা) বিদ্যুৎও চাচ্ছেন, আবার উনার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেও গ্যাস চাচ্ছেন। গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। দেশের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালু রাখার স্বার্থে সেখানে গ্যাস দিতে হচ্ছে, যার কারণে সার কারখানায় এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।"
দীর্ঘমেয়াদী সংকট: মন্ত্রী দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে কোনো নতুন ড্রিলিং (গ্যাস কূপ খনন) করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ড্রিলিং শুরু করেছে। নতুন গ্যাস পাওয়ার পরেই আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজে হস্তক্ষেপ করেন এবং মন্ত্রীকে তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, "মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধহয় পাওয়া যায়নি।"
ভবিষ্যতে সংসদে যেকোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল ও বাস্তবমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন:
"সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি (পর্যালোচনা) করে, তারপরে সংসদে দেবেন।"