
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু বইয়ের পাতায় বন্দি পড়াশোনা নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে এবার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় খেলাধুলাকে পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। শিশুদের ক্রীড়ামোদী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শিক্ষাক্রমের ভেতরেই স্পোর্টস বা খেলাধুলাকে যুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক ও বালিকা) জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের ক্রীড়ামোদী করে গড়ে তোলার জন্য খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’
সরকারের শিক্ষানীতির অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে ড. মিলন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শিশুদের। তাই শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের ক্রীড়ামোদী করে গড়ে তোলার জন্য খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখার বহুমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন, ‘সারা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য স্কুল ড্রেস দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিশুরা যেন পুষ্টিহীনতায় না ভোগে এবং মনোযোগের সঙ্গে লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য মিড ডে মিল (স্কুল ফিডিং) চালু করা হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই দেশের সব স্কুলে মিড ডে মিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের মধ্যেই রয়েছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা যেন খেলাধুলায় পারদর্শী হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য এই টুর্নামেন্ট বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সুচারু সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী।