
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাকে হত্যার পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে মেজো ছেলের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দিনগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারী মারুফা বেগম (৬০) ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবারের পর থেকে মারুফা বেগমকে এলাকায় আর দেখা যায়নি। এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। এর মধ্যে বুধবার বিকেলে ঘরের ভেতরে তোষকের নিচে রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে ঘরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মেজো ছেলে জুয়েল মিয়ার ঘরের মেঝেতে ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ আরও গভীর হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, তাকে অন্তত দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়। মরদেহের মাথার বাঁ পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং গত ৩০ মে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। ওই দিন পারিবারিক কলহের কারণে জুয়েলের স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। পরে তিনি মাকে বাড়িতে রেখে শ্বশুরবাড়ি যান। এরপর থেকে আর মাকে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, পরে ঘরে ফিরে মায়ের খোঁজ না পেয়ে সন্দেহজনক অবস্থায় মেঝেতে রক্ত ও মাটি দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া (৪০) আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে।
একই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছেলে জুয়েলই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।