
প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আসন্ন ঈদুল আজহার পর এবং বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই এই রদবদল ও সম্প্রসারণ হতে পারে। এতে টেকনোক্র্যাট কোটায় দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবং নতুন করে বেশ কিছু সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের লক্ষ্য হলো, যেসব মন্ত্রীর হাতে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া। এতে কাজের গতি বাড়বে এবং সেবার মান উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নিবিড় তদারকি ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে চান।
আলোচনায় টেকনোক্র্যাট ও হেভিওয়েট নেতারা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দলীয় সূত্র মতে, টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও ত্যাগী নেতা। আলোচনায় যাদের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে:
শামসুজ্জামান দুদু: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।
হাবিবুন নবী খান সোহেল: চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।
এছাড়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী-কেও নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সাংসদদের মধ্য থেকে পূর্ণ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন করে যাদের নাম আলোচনায় আছে:
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু: বর্তমানে হুইপের দায়িত্বে রয়েছেন।
অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস: পাবনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
খন্দকার আবু আশফাক: ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া: কুমিল্লার সংসদ সদস্য।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন
খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সিরাজগঞ্জের আমিরুল ইসলাম খান আলিম।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ বা দায়িত্ব বণ্টন সম্পূর্ণভাবে সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এখতিয়ার। তিনি যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখনই যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেবেন। দলীয় ফোরামে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।”
প্রশাসনিক এই রদবদল সরকারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।