
আসন্ন ঈদুল আজহার দিন দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে রাজধানী ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, ঈদের দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা খুব বেশি নয়।
তিনি বলেন, ‘বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বাড়ছে। জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই অবস্থা থাকতে পারে। এরপর বর্ষার প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ সপ্তাহে বর্ষা মৌসুমের আগাম প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
রাজধানীর আবহাওয়া প্রসঙ্গে একেএম নাজমুল হক বলেন, ‘রাজধানীতে আকাশে নিম্নস্তরের মেঘ থাকলেও সেখান থেকে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না। বরং এই মেঘ ভ্যাপসা গরম আরও বাড়াতে পারে।’
গত বুধবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা কিছুটা কমে ৩৪ ডিগ্রিতে নেমে এলেও গরমজনিত অস্বস্তি কমেনি। একই সময়ে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। শুক্রবারও এসব এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে ঈদের দিন সকালবেলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। এতে খোলা মাঠ ও ঈদগাহে জামাত আয়োজন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিকটস্থ মসজিদ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও বৃষ্টি প্রতিরোধে বিশেষ শামিয়ানার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কোরবানির সময় বৃষ্টিজনিত দুর্ভোগ এড়াতে ছাউনিযুক্ত বা নিরাপদ স্থানে পশু জবাই করার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য ও রক্ত বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে যাতে পরিবেশ দূষণ বা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।