
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদীগুলো যেন অপরাধ আর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। গত মাত্র এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন নৌপথ থেকে জলমগ্ন অবস্থায় ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। ১৫ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিভিন্ন পয়েন্টে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।
নৌ পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া এই ১৭টি মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে ৩টি নিয়মিত হত্যা মামলা এবং ১১টি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) নৌ পুলিশের প্রধান সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নদীপথের এই উদ্বেগজনক চিত্র ও সাফল্যগাঁথা তুলে ধরা হয়।
এক সপ্তাহের সামগ্রিক আইনি ব্যবস্থার চিত্র
বিগত সাত দিনে দেশের নদীগুলোতে শুধু লাশ উদ্ধারই নয়, জলদস্যুতা, চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এক বিশাল চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছে। এই সময়ে নৌ পুলিশ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মোট ৯৬টি মামলা নথিভুক্ত করেছে। মামলার বিবরণ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
খুন ও অপমৃত্যু মামলা: ৩টি হত্যা এবং ১১টি অপমৃত্যু মামলা।
মৎস্য ও পরিবেশ আইন: মা মাছ ও রেণু পোনা রক্ষায় ৬৩টি মৎস্য আইন এবং ১টি বালুমহাল আইনের মামলা।
নৌ নিরাপত্তা আইন: নদীতে বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালানোর দায়ে ১৩টি মামলা।
গুরুতর অপরাধ: নদীপথে ১টি ডাকাতি, ১টি অপহরণ, ১টি চাঁদাবাজি, ১টি মাদক এবং ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা।
কোটি টাকার অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দ
নদী ও জলজ সম্পদ রক্ষায় গত সাত দিনে নৌ পুলিশের বিশেষ দলগুলো দেশের বিভিন্ন নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের নিষিদ্ধ কারেন্ট ও অন্যান্য অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে নদী থেকে ২ হাজার ৮৯ কেজি বিভিন্ন দেশীয় মাছ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০টি বাগদা চিংড়ির পোনা (রেণু) এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত ৪৯০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়।
এর পাশাপাশি নদীপথে বৈধ কাগজপত্র বা রুট পারমিট ছাড়া বিপজ্জনকভাবে চলাচলের অপরাধে ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট নৌ-আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ২টি বিশালাকার ড্রেজার মেশিনও জব্দ করেছে পুলিশ।
নৌ পুলিশের সদর দপ্তর থেকে দেওয়া চূড়ান্ত তথ্যানুযায়ী, নদীপথের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার এই বিশেষ এক সপ্তাহের সাঁড়াশি অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণসহ মোট ৩০২ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নদী সুরক্ষায় এই কঠোর নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।