
মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বংসের ঘটনায় দগ্ধ কোমলমতি শিশুদের বাঁচাতে দেশের প্রখ্যাত বার্ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার—এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তাঁর মতে, সরকারের এই ‘একগুঁয়েমির’ মাসুল দিতে হয়েছে কয়েকটি তাজা প্রাণের বিনিময়ে।
হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বিস্ফোরক দাবি
সম্প্রতি ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অংশ নিয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী মাইলস্টোন স্কুল দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি জানান, দগ্ধ শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য ডা. সামন্ত লাল সেন নিজে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যা তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন:
'উনি বলেছিলেন, আমি জানি যে একটা বিশাল দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমি সহযোগিতা করতে চাই। যেভাবেই হোক না কেন আমি সহযোগিতা করতে চাই। আমি এই মেসেজটা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সাড়া দিল না, সাহায্য নিল না।'
‘ঘাড়ত্যারামি’ ও প্রাণের বিনিময়ে মাসুল
সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাহায্য না নেওয়াটা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন:
'আমি জানি না, সাহায্য নিলে হয়ত কয়েকটা জান বেঁচে যেত। কিন্তু উনারা নেননি। আমি আবারও বলছি, এটা ঘাড়ত্যারামি। বলেছি তো বলেছি, করব না। এই ধরনের অনেক ঘটনা আছে, যেখানে উনাদের একগুঁয়েমির কারণে আমাদেরকে বর্তমানে অনেক জায়গায় ভুগতে হচ্ছে।'
প্রেক্ষাপট: মাইলস্টোন স্কুল দুর্ঘটনা
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের ওপর বিধ্বস্ত হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই সময় দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বার্ন ইউনিট প্রস্তুত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন ছিল। অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন, যিনি বাংলাদেশে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসার পথিকৃৎ এবং সাবেক মন্ত্রী, সেই সংকটে পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন।
সমালোচনার মুখে সত্য বলার ‘সৎ সাহস’
হুম্মাম কাদের চৌধুরী মনে করেন, এই তথ্যটি জনসমক্ষে আনায় তাকে বিভিন্ন মহলের তোপের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে তিনি দাবি করেন, প্রকৃত সত্য ও জনগণের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি এই বিষয়টি সামনে আনার সাহস দেখিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা ফিরিয়ে দেওয়ার এই দাবিটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।