
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভর্তি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ‘৪০ লাখ বছর’ সময় অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এ ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ এসএসসি ও সমমান এবং ২০ লাখ এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকে। এতে জাতীয়ভাবে বিপুল পরিমাণ সময় নষ্ট হচ্ছে, যা দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, “কখন ভর্তি শুরু হবে এবং কখন শেষ হবে—এই বিষয়গুলো সমন্বয়ের দায়িত্ব কি সংশ্লিষ্ট সবার নয়?” দ্রুত একটি সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু সিলেবাস শেষ করলেই হবে না, বরং শিক্ষা ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় সে বিষয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা উন্নয়নের কেন্দ্র হবে নাকি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘বেকারত্বের কারখানা’ না বানিয়ে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।