
চলতি এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ১ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে বিদ্যুৎ রেশনিং পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, আদানি পাওয়ার, চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার এবং পটুয়াখালীর আরএনপিএল যৌথ উদ্যোগ থেকে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্র কয়লাভিত্তিক এবং ধাপে ধাপে উৎপাদনে ফিরছে।
তিনি বলেন, আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ থাকলেও তা আবার চালু হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে এসএস পাওয়ার ও আরএনপিএল ২৮ এপ্রিল থেকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখান থেকে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ আসতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সর্বোচ্চ উৎপাদন প্রায় ১৪ হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট হলেও চাহিদা ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে গরমের মৌসুমে ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এলএনজি, কয়লা ও হেভি ফুয়েল অয়েল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহ ঘাটতির কারণে আপাতত বিদ্যুৎ রেশনিং অব্যাহত আছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দেশে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে, যা বিদ্যুৎ চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন ইউনিটগুলো চালু হলে জাতীয় গ্রিডে চাপ কিছুটা কমবে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে।