
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় না উঠে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দুপুরে যমুনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি পরিবারসহ সেখানে অবস্থান করছেন এবং বাড়িটি সেই অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রায় ১৭ বছর প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর থেকে তিনি গুলশানের ওই বাসভবনেই বসবাস করছেন। উল্লেখ্য, পাশের ‘ফিরোজা’ ভবনে বসবাস করতেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
ইতিহাসের দিক থেকে ১৯৬ নম্বর বাড়িটির গুরুত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে এই বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময় রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সংস্কার কাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই উঠবেন। সেই অনুযায়ী ভবনটি প্রস্তুত করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস হেয়ার রোডের যমুনাকে সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ভবনটি ছেড়ে দেন।
আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, সরকারি বাসভবনে না থাকলেও যমুনা থেকেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে সেখানে কূটনীতিক ও আলেমদের সম্মানে দুটি ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ১০টায় যমুনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বাবা-মায়ের ধারাবাহিকতাই অনুসরণ করছেন। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে বা বিরোধীদলে থেকেও সরকারি বাসভবনে ওঠেননি।
ঈদের দিনসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, সকাল ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যমুনায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।