
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এ অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১১ মার্চ) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণে আমরা উপনীত হয়েছি। কাল সেই ঐতিহাসিক দিন। ইনশাআল্লাহ, কালকে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হবে।’
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এখনো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ চূড়ান্ত না হওয়ায় অধিবেশনের শুরুতে বিধি অনুযায়ী সংসদ নেতা একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভা পরিচালনার জন্য প্রস্তাব করবেন। তার সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন।
তিনি আরও বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথের পর পুনরায় সংসদের অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল নির্ধারণ করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং তার ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আইনমন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুষ্ঠিত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটিসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর দিনের অধিবেশন মুলতবি করা হবে।
এর আগে বুধবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং প্রথম অধিবেশনের শুরুতে কে সভার সভাপতিত্ব করবেন—এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।