
বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানসহ চলমান সংঘাতের সমস্যার সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে চাইছে।
রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, "আমরা চাই উত্তেজনা প্রশমিত হোক এবং এই সমস্যার সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আসুক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ এখন ভৌগোলিক-রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। আমাদের অনেক নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত রয়েছেন। তাদের কর্মসংস্থান সেখানে নির্ভরশীল।"
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আরও বলেন, দেশের জন্য প্রধান অগ্রাধার্য হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সহায়তা করা, যাতে তারা কোনো দুর্ভোগে না পড়েন। তিনি বলেন, "যারা যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করছেন, তাদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যারা যাত্রী, প্রয়োজনে তাদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়েও যেসব দেশে আমাদের নাগরিকরা কাজ করেন, সেসব দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।"
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের জ্বালানি মজুত যথেষ্ট। তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে আমাদের যে মজুত রয়েছে, তা নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। অতীতেও দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি খাতে কিছু ওঠানামা হতে পারে। তবে সেসব মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।"
আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বিভাগীয় এবং মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক নিয়মিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এছাড়া বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি জানান, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সম্পর্কিত বিষয়েও আজ আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন এবং ওআইসি সফর ও বৈঠকের তথ্য প্রদান করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আরও বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের ভেতরে থাকা যাত্রী এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের যাতে কোনো দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি নিজেও গতকাল বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়েছি। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সমন্বয় করছি।"