
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন—সংবিধান ও আইন মেনেই নির্বাচন কমিশন কাজ করছে, তাই আতঙ্কের কিছু নেই। তার ভাষায়, “একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন করবো—ইনশাআল্লাহ।”
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে, যেখানে আগের দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার বর্তমানে কারাগারে—এই বাস্তবতায় নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক আগে তিনি কতটা চাপে আছেন জানতে চাওয়া হয়। জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, জাতির কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, সেই লক্ষ্যেই আইনকানুনের মধ্যে থেকেই কাজ করছি। আমাদের কমিটমেন্টকেই ফোকাসে রেখে দায়িত্ব পালন করছি। সুতরাং ভয়ের কোনো কারণ নেই।”
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য ভোটকে সামনে রেখে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হবে। প্রার্থী বা তাদের মনোনীত এজেন্ট, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে।
ভোট শেষে কেন্দ্রেই গণনা সম্পন্ন হবে এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলেও জানান সিইসি। পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফল একত্র করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরে সিইসি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে যুক্ত রয়েছেন। ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তা এবং প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত। এছাড়া ১৬০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশীয় পর্যায়ে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক এবং ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের কেন্দ্র প্রবেশে অনুমতি থাকলেও ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কমিশনের নির্দেশিকা অনুসরণ করার অনুরোধ জানান।
সিইসি বলেন, স্বচ্ছতা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। তার মতে, গণমাধ্যমের পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নির্বাচনে জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।