
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্যাম্পগুলো কার্যত লকডাউন থাকবে।
গোয়েন্দা তথ্য ও ঝুঁকির চিত্র
ইসির হাতে থাকা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে আরসা (ARSA), আরএসও (RSO) ও আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতির তথ্যও পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনকালীন সময়ে কেউ যাতে রোহিঙ্গাদের ভোটকেন্দ্রে জনবল হিসেবে ব্যবহার, জাল ভোট প্রদান বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির কাজে লাগাতে না পারে—সেজন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইসি যে ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করেছে তার মধ্যে রয়েছে—কিছু এমপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় রোহিঙ্গাদের ব্যবহার, অর্থের বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান ও কেন্দ্রভিত্তিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, RCPR ও Ro-FDMN RC নামের সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানো এবং সীমান্ত এলাকায় ARSA, RSO বা আরাকান আর্মির তৎপরতার মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরি।
ক্যাম্পে কঠোর নিয়ন্ত্রণ
নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একগুচ্ছ নির্দেশ বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে ইসি।
চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত প্রবেশ সীমিত করার অংশ হিসেবে ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ক্যাম্পের ভেতরে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল স্থগিত থাকবে।
বাজার ও এনজিও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ: জনসমাগম এড়াতে বালুখালী, লেদা ও নয়াপাড়া বড় বাজার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এনজিও কর্মীদের ক্যাম্পে প্রবেশও সীমিত করা হবে।
কঠোর নজরদারি: প্রতিটি চেকপোস্টে শতভাগ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি নিশ্চিত করা হবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি জোরদার থাকবে।
যৌথ অভিযান ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিতে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্ট ক্যাম্প এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।
সাড়ে ৯ লাখের বেশি জনবল মোতায়েন
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে মোট ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন থাকবে।
তিনি জানান, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন পোলিং অফিসার। এছাড়া পোস্টাল ভোট পরিচালনায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।
ইসি বলছে, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।