
গাজা উপত্যকায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সদস্য হতে নীতিগত সম্মতি ও আগ্রহের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান স্পষ্ট করেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যালিসন হুকার বলেন, ‘এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে ইচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র।’
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
একই দিনে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী সেক্রেটারি অব স্টেট পল কাপুরের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। ওই আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পায়।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড নীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিষয়।
এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে. রিগাস ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তারা, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বাংলাদেশের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মাইকেল রিগাস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে গাজায় চলমান যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার পক্ষে একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হয়। ওই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত ও তদারকির জন্য গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের উদ্যোগ, যার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।