
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি নাটকীয় দাবি ছড়িয়ে পড়েছে—বোনকে ধর্ষণের প্রতিশোধ নিতে বাবার পিস্তল দিয়ে গুলি করে অভিযুক্তকে হত্যা করেছে ১১ বছরের এক শিশু। তবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন এক সত্য।
চাঁদপুরের মতলব এলাকায় ১১ বছরের এক শিশুর বীরত্বগাথা সম্বলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, শিশুটি তার বাবার লাইসেন্স করা অস্ত্র থেকে চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে বোনের ধর্ষণকারীকে খতম করেছে। সূত্র হিসেবে এতে দেশের ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম 'দৈনিক ইত্তেফাক'-এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পুরো বিষয়টিই সাজানো এবং ভিত্তিহীন।
ইত্তেফাকের নামে জাল ফটোকার্ড
ছড়িয়ে পড়া খবরটি যাচাই করতে দৈনিক ইত্তেফাকের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থাও চাঁদপুরে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর প্রকাশ করেনি। মূলত ইত্তেফাকের লোগো ও ফরম্যাট ব্যবহার করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
ছবির নেপথ্যে অন্য কাহিনী
ভাইরাল হওয়া ছবিতে যে শিশুকে দেখা যাচ্ছে, তার উৎস খুঁজতে রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দেখা যায়, ছবিটি আসলে ২০২৫ সালের একটি ভিন্ন ঘটনার। ওই সময় একটি ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়েছিল যে, রাজনৈতিক কারণে এক শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে চ্যানেল আই-এর তৎকালীন ভিডিও প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিতে থাকা ব্যক্তির নাম মো. বিজয় এবং তার বয়স ১৮ বছর। মাদক কেনার টাকা না পেয়ে নিজের বাড়িতে চুরির অভিযোগে তার মায়ের করা মামলায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
প্রযুক্তির কারসাজিতে বিকৃতি
ফ্যাক্টচেক বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে যে, ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণের ছবিটিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এডিট করা হয়েছে। তার মুখাবয়ব পরিবর্তন করে তাকে ১১ বছরের শিশু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা যায়। জনপ্রিয় ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান 'রিউমর স্ক্যানার'ও ইতোপূর্বে এই একই দাবিকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
পরিশেষে এটি নিশ্চিত যে, চাঁদপুরে ১১ বছরের শিশু কর্তৃক গুলি চালিয়ে হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একটি পুরোনো ছবির বিকৃত রূপ এবং বানোয়াট গল্প ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে তা মূল ধারার সংবাদমাধ্যম থেকে যাচাই করে নেওয়ার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।