
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একহাত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল আবিবের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হোয়াইট হাউজে তিনি নিজে না থাকলে বর্তমান বিশ্বে ইসরায়েল নামক কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যেত না।
মূলত ইরানের সঙ্গে আমেরিকার একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি সই করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। গত রবিবার (১৪ জুন) সেই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পর দুই চিরমিত্র দেশের মধ্যকার ফাটল এখন পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে একটি যৌথ বৈঠকে অংশ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সমসাময়িক ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। আমাকে ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না, কারণ অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট আমি যা করেছি তা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।’
ইসরায়েলের সুরক্ষায় নিজের সামরিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন,
‘আমি যদি এই প্রক্রিয়ায় জড়িত না হতাম, তবে অনেক আগেই ইসরায়েল বোমা বিস্ফোরণে উড়ে যেত।’
অবশ্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের কথা নাকচ করে ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার এখনো অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তবে একই সঙ্গে লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে মাত্রাতিরিক্ত সাধারণ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
লেবাননে হওয়া একটি সুনির্দিষ্ট অথচ নাম প্রকাশ না করা ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভের সাথে ট্রাম্প বলেন,
‘আমি সেই হামলাটি দেখেছি, আমি দেখেছি বোমাটি কোথায় আঘাত করেছে। ওটা অত্যন্ত নৃশংস ছিল।’
এর পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অনেক বেশি সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশটির ওপর চতুর্মুখী যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। তবে দীর্ঘ সংঘাতের পথ মাড়িয়ে গত রবিবার ওয়াশিংটন এককভাবে তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সই করায়, ইসরায়েলের যুদ্ধংদেহী অবস্থানের সঙ্গে আমেরিকার এক ধরনের প্রকাশ্য দূরত্বের সৃষ্টি হলো।
সূত্র: নিউজউইক