
সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সিদ্দিক আনদার দলত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই ভিডিওতে আরএসএফপ্রধান মোহামেদ হামদান দাগালো ওরফে হেমেদতি এবং তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অর্থ, অস্ত্র সরবরাহ, বাহিনী পরিচালনা ও সামরিক পদোন্নতির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তোলেন আনদার।
তবে আনদারই প্রথম নন। চলতি বছর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আরএসএফ ছেড়েছেন বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শত শত যোদ্ধা নিয়ে বাহিনী ছেড়েছেন তাঁদের কমান্ডাররা।
দলত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আনদার বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণভাবে একটি পারিবারিক প্রকল্পে কাজ করছিলাম, যা হেমেদতির আত্মীয়রা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তাঁকে বহিষ্কার, কারাদণ্ড অথবা গোপন হত্যাকাণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়।’
উল্লেখ্য, হেমেদতির ভাই আব্দুল রহিম হামদান দাগালো আরএসএফের উপকমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আনদারের আগে গত ৮ অক্টোবর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহামেদ আজরাক আল-ফানজারি ৩০০ সেনা ও ৩০টি সামরিক যান নিয়ে দলত্যাগের ঘোষণা দেন। সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে অন্য যোদ্ধাদেরও আরএসএফ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দ্য সুদান ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানী খার্তুমের বিপরীতে নীল নদের তীরে অবস্থিত ওমদুরমানে ৫০ জন যোদ্ধা নিয়ে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীতে (এসএএফ) যোগ দেন আরেক কমান্ডার আল-তাইয়েব আল-ওয়াহিদু। আরএসএফের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি দলত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে গত মে মাসে ব্রিগেডিয়ার আলি রিজকাল্লাহ দলত্যাগের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া গত এপ্রিলে আরেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মেজর জেনারেল আল-নূর আহমেদ আদাম এসএএফে যোগ দেন। আরএসএফের নেতৃত্বের মধ্যে সামরিক নিয়োগ নিয়ে মতবিরোধের জেরে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) ও আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘ এই যুদ্ধে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।