
ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গোপন সামরিক তথ্য সরবরাহের অভিযোগে এক ইসরায়েলি সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সন্দেহভাজন গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় তদন্তের পর গত সেপ্টেম্বরে ওই সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে শত্রুপক্ষের কাছে তথ্য পাচার এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে ইরানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ওই সেনার। এ সময় তিনি নিজের সামরিক ইউনিটের কর্মকাণ্ড, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের প্রস্তুতি এবং সেনাদের দায়িত্ব পালনের জন্য তলবসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছেন। চলতি বছর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাকে তলব করার বিষয়টিও ইরানি পক্ষকে জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সামরিক ঘাঁটির অবস্থান ও ভৌগোলিক স্থানাঙ্কের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সামরিক যানবাহন এবং ইসরায়েলের একটি বিমানবন্দরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজের ছবিও পাঠিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া নিজের সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গুপ্তচরবৃত্তির কাজে যুক্ত করার চেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তাদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন অভিযুক্ত সেনা। সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন তরুণদের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন তিনি।
কৌঁসুলিদের অভিযোগ, সামরিক ও অন্যান্য গোপন তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ গ্রহণ করেছেন ওই সেনা। তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ইরানি ব্যক্তি তাকে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি একটি ফোন ও পিস্তল কিনে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। ধরা পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে কী ধরনের সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করতে হবে এবং কীভাবে ঘটনার ব্যাখ্যা আড়াল করতে হবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া ইরানে যাওয়ার বিনিময়ে ওই সেনাকে দুই লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সামরিক আদালত তার আটকাদেশ আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।