
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ সদস্যের সমর্থন। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলোর অবস্থান।
প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, আরব দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি এবং রাআম পেয়েছে আটটি আসন। সব মিলিয়ে তাদের আসনসংখ্যা ১৯। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে প্রধান দুই জোটকেই এসব দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিকল্প হিসেবে তাদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে দক্ষিণপন্থি ও অতি দক্ষিণপন্থি দলগুলো। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে মধ্যপন্থি ও উদারপন্থি দল। এ অবস্থায় আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বামপন্থি-প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা ইয়াইর গোলান জানিয়েছেন, তিনি বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর ল্যাপিদ এবং আরব রাআম পার্টির নেতা মনসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করেছেন। আইজেনকটের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গোলান বলেন, ইসরায়েলকে রক্ষার স্বার্থে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।
এদিকে ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রক্ষণশীল হেরাডি ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে দলটির নেতৃত্বের এমন অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন দুই জোট এক হয়ে সরকার গঠনের একটি সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এমন সমঝোতা হলে মধ্যপন্থি ভোটারদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর ইসলামপন্থি দলগুলোকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামপন্থি দলগুলোকে বাদ দিয়ে মধ্যপন্থি ইহুদি দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের বিকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলের পর ইসরায়েলে সরকার গঠনের আলোচনা এখন জোটের সমীকরণ, আরব দলগুলোর সমর্থন এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।