
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিসর। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সভাপতিত্বে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সম্পদ এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় কায়রো রিয়াদের পাশে থাকবে। পাশাপাশি চলমান সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিসরের প্রস্তুতি
ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে আবারও লড়াই শুরু করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তার অনুরোধ এলে তা অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্টকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি জরুরি সংসদীয় অধিবেশনও ডাকা হয়েছে।
লোহিত সাগরে নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুরক্ষিত রাখতে সৌদি আরব আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতা চাইছে। এই নৌপথ মিসরের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সুয়েজ খালের আয় অনেকাংশে এ অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের ওপর নির্ভরশীল।
লোহিত সাগরে ইরান কিংবা তাদের মিত্রদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের সম্ভাবনাকে মিসর দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখে আসছে। ফলে সৌদি আরবের প্রতি কায়রোর সমর্থনের পেছনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়েছে।
এর আগের মাসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাকে মিসরের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিল কায়রো।
এদিকে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিদের হামলার পেছনে ইরানের উসকানি রয়েছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।