
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক শর্ত তুলে ধরেছে ইরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে এসব শর্ত জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন আরাগচি।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ বা আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের অবসান। তেহরান আরও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছে।
এর আগে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের কাছে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
কাতারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতা করছে। দোহা জানিয়েছে, আলোচনার অগ্রগতির জন্য হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সামরিক উত্তেজনা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এ জলপথের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। তিনি আলোচনাটিকে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।