
ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে দেশটিকে ‘ধ্বংস’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ রয়েছে বলে জানান।
নিউইয়র্কে দেওয়া ৩৭ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে চুক্তির মাধ্যমে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘দ্রুত ধ্বংস’ করা হবে—এ সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে।
তবে কঠোর বক্তব্যের পাশাপাশি ইরান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাষণে ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে অভিহিত করার কথা বলেন এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে পিছিয়ে পড়বে না বলে দাবি করেন।
গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ভাষণে গুরুত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের ভাষণের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর শেষ সাধারণ পরিষদ ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও বিভাজন নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং চলমান যুদ্ধগুলোর অবসানের আহ্বান জানান।
ভাষণে ট্রাম্প কিউবার কমিউনিস্ট সরকারেরও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হয়।