
মিয়ানমারের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর মান্দালয়ের তাড়া-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ছয়টি ‘সুইসাইড ড্রোন’ হামলা চালিয়েছে জান্তাবিরোধী বিদ্রোহীরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই বিমানবন্দরটির সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্তও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
দেশটির সরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা মিয়ানমার এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশাল তাদের ফেসবুক পেজে ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির ব্যাংক দপ্তরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাড়া-উ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
হামলার প্রভাব পড়েছে বিমানবন্দরটির অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলেও। কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে বলে জানা গেছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাড়া-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ছয়টি ফার্স্ট-পারসন-ভিউ বা এফপিভি ‘সুইসাইড ড্রোন’ নিক্ষেপ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক দল পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এই ড্রোনগুলো ছোড়ে।
তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি কোনো যানবাহন বা বিমানবন্দরের রানওয়েরও ক্ষতি হয়নি বলে গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিমান ছিল বিমানবন্দরে
মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় তাড়া-উ বিমানবন্দরে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল। ওই যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করেই ড্রোনগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের পাশাপাশি নির্ধারিত অন্যান্য বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।
সামরিক শাসনের পাঁচ বছর, এখনো চলছে অস্থিরতা
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়।
প্রায় পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মিয়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট হন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। তবে নির্বাচন ও নতুন নেতৃত্ব আসার পরও দেশটিতে এখনও স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।
তথ্য সূত্র: রয়টার্স