
জার্মানিতে রাশিয়ার কনস্যুলেট জেনারেল বহিষ্কার এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন, বার্লিন ‘আবারও যুদ্ধ চায়’।
রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলে জার্মানি। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
বার্লিনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ল্যাভরভ বলেন, ‘মোটের ওপর, এটি প্রকৃত যুদ্ধ শুরুর দিক। তারা বন শহর থেকে কনস্যুলেট জেনারেলকে বহিষ্কার করেছে। বার্লিনে রুশ হাউস বন্ধ করে দিচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে কী হয়েছিল, তা আমার মনে আছে। তারা আবার যুদ্ধ চায়।’
জার্মানির বিরুদ্ধে নাৎসিবাদের অভিযোগও তোলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ৪ আগস্ট। পরে গত সপ্তাহে জার্মান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে। জার্মানির দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরটিতে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড হামলা’র চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এ উদ্দেশ্যে রাশিয়া এজেন্ট পাঠিয়েছিল বলেও অভিযোগ করে বার্লিন।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বার্লিন ও মস্কো একে অপরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো রুশ কূটনীতিকদের তলব করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে জার্মানি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কিয়েভের অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে চলতি মাসের শেষ দিকে রাশিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই জার্মানির সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলো।