
কাতারের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, গাজা যুদ্ধের সময় কাতারের ওপর হামলা চালানোর পাশাপাশি কাতারও তার বিরুদ্ধে হামলা করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমা হামলাও চালিয়েছি। (গাজা) যুদ্ধের সময় তাদের ওপর হামলা করেছি। আর তারাও আমার ওপর হামলা করেছে।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকারটির ভিডিও প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। সেখানে কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলাকালে কাতার ইসরায়েলের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল দোহা। দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার।
এর আগে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের নেতাদের লক্ষ্য করে আবাসিক একটি ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় হামাসের পাঁচ শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হন। কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মীও প্রাণ হারান। সে সময় গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসের ওই নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন এবং বৈঠক চলাকালেই তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
২০১২ সাল থেকে কাতারে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। কাতার সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়কে দেশটিতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।
দোহায় হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় কাতার। দেশটির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি হামলাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেন।
হামলার পর কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ইরান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ। পরে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারাও কাতার সফর করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও দোহায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানান। তিনি ঘটনাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যায়িত করেন।
দোহায় ওই হামলার প্রথম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহু সাক্ষাৎকারটির ভিডিও প্রকাশ করলেন।