
চাদ-সুদান সীমান্তের কাছে একটি জ্বালানি বাজারে বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। এ হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে চাদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হামলার বিষয়ে চাদের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে জ্বালানি বাজারে হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) তাদের যানবাহনে জ্বালানি নিত। হামলায় ১২ জন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন বলে এএফপিকে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
চাদের এ অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর আগেও গত সপ্তাহে চাদ অভিযোগ করেছিল, দেশটির ভূখণ্ডে একটি সামরিক বহরে বিমান হামলা চালিয়েছে সুদান।
চাদের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় এনেদি অঞ্চলে চাদের ভূখণ্ডের ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে ওই হামলা চালানো হয়। তবে এতে কোনো চাদিয়ান নাগরিক হতাহত হননি। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় ওই এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছিল চাদ।
দেশটির একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সুদান সীমান্তের কাছে পূর্বাঞ্চলীয় টিনে এলাকায় প্রায় ১০০টি সাঁজোয়া যান ও সিগন্যাল-জ্যামিং ট্রাক মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার সুদানের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। দেশটির বক্তব্য, ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো পেশাদার ও স্বাধীন তদন্তের আগেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির বাহিনী সুদানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা রক্ষায় সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানো হচ্ছে না বলেও দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে খার্তুমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও চাদে সাম্প্রতিক বিমান হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানায় দূতাবাসটি।
সুদানের চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত নাগরিক পালিয়ে চাদে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে আশ্রয় নেওয়া এসব শরণার্থী বর্তমানে পানির সংকটসহ নানা মানবিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।