
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামোগত দুরবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার মাঠে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষা সংস্কারের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও বর্তমানে সরকারি স্কুলগুলোর জরুরি সংস্কারকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দিল্লির ফরিদাবাদের একটি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রেই দেশটির শিক্ষা অবকাঠামোর সংকটের একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। বাইরে থেকে ভবনটিতে নতুন রঙের প্রলেপ থাকলেও ভেতরের অবস্থা নাজুক। বিদ্যালয়টির আটটি শৌচাগারের চারটিই ময়লা-আবর্জনায় ভরা এবং ব্যবহারের অনুপযোগী। নয়টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভারতে প্রায় ৯৪ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ ব্যয়ের সুপারিশ করা হলেও বর্তমানে সরকার ব্যয় করছে মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশ। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাবে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তিনি ২০টির বেশি গ্রামীণ স্কুল পরিদর্শন করেছেন। তার অভিজ্ঞতায় এসব প্রতিষ্ঠানের কোথাও ন্যূনতম মানের অবকাঠামোও পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ স্কুলেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং নিরাপদ পানির সংকট রয়েছে।
হরিয়ানার প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও প্রবীণ শিক্ষক চতার সিং বলেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রায়ই নির্বাচন পরিচালনা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো কাজে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে নিয়মিত শিক্ষাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষা অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই রাজস্থানের জয়পুরের কাছে একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন সিজেপির প্রতিনিধিরা। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিদ্যালয়ে মহিষের গোয়ালঘর ব্যবহার করে পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছিল।
সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, তাদের গাড়িতে পাথর ছুড়ে কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং দলের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য তিনি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলওয়ার ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ছররা গুলি চালানোর প্রতিবাদ এবং ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
তার সঙ্গে ছিলেন সাহিল লোচাব নামে এক শিক্ষার্থী, যিনি পুলিশের ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। সাহিলের শরীরে ২০০টি এবং চোখে তিনটি ছররা গুলি গেঁথে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের দাবি, ঘটনাটি ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের তদন্তের আওতায় রয়েছে।