
তিন দিনের টানা আলোচনাতেও শুল্ক ইস্যুতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। শুক্রবার গভীর রাতে আলোচনা শেষ হলেও কোনো বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। এর পরই কানাডা থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে দুই দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের বাণিজ্যিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার মধ্যরাতের পরপরই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যে ‘সেকশন ৩৩৮’-এর আওতায় নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছেন। পাশাপাশি নতুন মার্কিন শুল্কের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ওয়াশিংটনে কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মধ্যে টানা তিন দিন আলোচনা হয়। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।
এক বিবৃতিতে কার্নি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কানাডার আলোচক দলকে অটোয়ায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষ্য, আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা কানাডার জন্য অন্যায্য এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর। এসব পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হলেও তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কানাডার মোট রপ্তানি বাণিজ্যের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট একটি অংশে প্রভাব ফেলবে। তবে কানাডার ইস্পাত, কাঠ ও গাড়ি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান শুল্ক রয়েছে। ফলে নতুন করে শুল্ক আরোপ হলে এসব গুরুত্বপূর্ণ শিল্প আরও চাপের মুখে পড়বে।
এমনিতেই কানাডার অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন মার্কিন শুল্ক দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন শুল্ক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কোনো কানাডীয় পণ্য যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) অনুযায়ী বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা বিবেচনায় না নিয়েই শুল্ক কার্যকর হবে। এতদিন এই চুক্তির কারণে কানাডার শিল্প খাতের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের আগের শুল্কের প্রভাব থেকে সুরক্ষা পেয়ে আসছিল।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বাণিজ্য বিরোধ আরও জটিল রূপ নিতে পারে। সামনে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন শুল্ক সেই আলোচনার গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের বাণিজ্য বিরোধ এখন আর কেবল নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর প্রভাব দুই দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।