
ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বিয়ের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিয়ের বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ভারতের প্রচলিত আইনে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি নেই।
রোববার (২৬ জুলাই) ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে তিন নারীকে বিয়ে করছেন বিকাশ ওরফে বিক্কু নামে এক যুবক। অনুষ্ঠানে তিনি তিন কনেকে নিয়ে অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত পাক ঘোরেন এবং পরে তাদের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কনেদের নাম সারোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ। তাদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার ধোরিয়া গ্রামে। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ দাবি করছেন, তাদের মধ্যে দুজন আপন বোন এবং একজন চাচাতো বোন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনজনকেই আপন বোন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিকাশ পেশায় নারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির একজন ক্যামেরাপারসন। শুরুতে অনেকেই পুরো ঘটনাকে অনলাইন কনটেন্ট তৈরির অংশ বলে মনে করেছিলেন। পরে বিকাশ ও তিন নারী জানান, এটি কোনো অভিনয় বা কনটেন্ট নয়; তারা বাস্তবেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
এক ভিডিও বার্তায় তিন নারীর একজন বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়েছি এবং আলাদা থাকার কথা কখনো ভাবতে পারিনি। যখন বুঝতে পারি বিয়ের পর আমাদের আলাদা হয়ে যেতে হবে, তখন আমরা ভেঙে পড়ি। পরে সিদ্ধান্ত নিই, আলাদা হওয়ার বদলে একজনকেই বিয়ে করে একসঙ্গে থাকব। আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
জানা গেছে, তিন নারীর একজন বি-টেক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। অন্য দুজন দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করেছেন।
বিকাশও জানিয়েছেন, তিনজনের একসঙ্গে থাকার প্রবল ইচ্ছার কথা বিবেচনা করেই তিনি তাদের বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
এদিকে, বিয়ের অনুষ্ঠানটি হাসানপুরের মা চামুন্ডা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হলেও মন্দির কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ওই সময় মন্দিরে সংস্কারকাজ চলছিল এবং সেখানে কোনো পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন না। ফলে এ ধরনের কোনো বিয়ের বিষয়ে তাদের জানা নেই।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কয়েকটি হিন্দু সংগঠন এ বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, সংশ্লিষ্ট সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। আইনটির পঞ্চম ধারায় বলা হয়েছে, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় আরেকটি বিয়ে বৈধ নয়। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী বিবাহ আইনগতভাবে অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।