
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে শিথিলতার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের জন্য ১০ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই নতুন এই শুল্ক কাঠামো কার্যকর করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্য এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে। তবে তেল-গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ থেকে ৫০ শতাংশের ‘পারস্পরিক’ শুল্ক বাতিল করে দেয়। এরপর বৈশ্বিক শুল্কনীতি নতুনভাবে কার্যকর করতেই হোয়াইট হাউস এ উদ্যোগ নেয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, শ্রীলঙ্কাসহ একাধিক দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (এমএফএন) শুল্কহারের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চীনসহ আরও ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব দেশের মধ্যে কয়েকটিতে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন। যদিও বেইজিং বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যচর্চা মোকাবিলার পাশাপাশি বৈশ্বিক শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।’
নতুন শুল্ক আগামী শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্য এ শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের পর কয়েকটি দেশ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য ঠেকাতে তাদের দেশে আগে থেকেই কার্যকর আইন রয়েছে। তাই নরওয়ের ওপর এ শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এ শুল্ককে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। কানাডাও একে একতরফা সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।