
কয়েক দিন ধরে চলা সামরিক সংঘাতের মাত্রা ছাড়িয়ে এবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে সরাসরি বড় ধরনের আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইরানের সেতু, রেলস্টেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বিমানবন্দরের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতের আঁধারে চালানো এই ধ্বংসাত্মক হামলায় অন্তত ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ফাইটার জেটের সুনির্দিষ্ট বোমাবর্ষণে ইরানের অন্তত তিনটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং একটি বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কেবল কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করেছে।
যেসব এলাকা মার্কিন হামলার শিকার
এএফপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই লেঙ্গেহ, বন্দর-ই খামির এবং বন্দর আব্বাসসহ হরমুজগান প্রদেশের একটি বিশাল অংশ জুড়ে ব্যাপক মাত্রায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন বিমান বাহিনী।
আক্রান্ত হওয়া সেতু তিনটির সবকটিই বন্দর-ই খামির শহরে অবস্থিত। এছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশন এবং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, হরমুজগান প্রদেশের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতেই সড়ক, রেল যোগাযোগ এবং বিমানবন্দর লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ দাবি করেছে, মার্কিন বিমান হামলায় হরমুজগান প্রদেশের ইরানশাহর শহরের একটি সম্পূর্ণ বিমানবন্দর ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি কিশ দ্বীপে চালানো বিমান হামলার তীব্রতায় প্রদেশের বেশ কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এই ভয়াবহ হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের মাটিতে মার্কিন বিমান অভিযানের টানা ষষ্ঠ দিন পূর্ণ হলো।
ট্রাম্পের হুমকির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হামলা
এই বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া হুঁশিয়ারি। এর আগে গত ১৪ জুলাই মার্কিন জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন যে, ইরান যদি ওয়াশিংটনের সাথে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি না হয়, তবে দেশটির সামরিক ঘাঁটির বাইরেও তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সেতুসহ সব ধরনের প্রধান প্রধান বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
হোয়াইট হাউসের সেই চরম হুমকির দুই দিন পার হতে না হতেই ইরানের একাধিক স্পর্শকাতর বেসামরিক স্থাপনায় এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাল পেন্টাগন।