
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক মানচিত্র আমূল বদলে দিতে এক বিশাল ও বিতর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল। প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (সাড়ে আট বিলিয়ন শেকেল) মূল্যের এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে গড়ে তোলা হবে হাজার হাজার নতুন ইহুদি বসতি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর্টিন এই চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমটি এই চুক্তিকে অবৈধ বসতির পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবং ‘অঞ্চলের চেহারা বদলে দেওয়ার’ লক্ষ্যে একটি ‘বিশাল’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই সমঝোতার আওতায় ওই অঞ্চলে ১২ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নযজ্ঞ চালানো হবে।
চুক্তিতে কারা উপস্থিত ছিলেন?
একটি আনুষ্ঠানিক সরকারি আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ
ইসরায়েল ল্যান্ড অথরিটির মহাপরিচালক ইয়েহুদা এলিইয়াহু
উত্তর পশ্চিম তীরের বসতি তদারককারী সংস্থা শমরন আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান ইয়োসি দাগান
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, এই নতুন সমঝোতাটি ওই অঞ্চলে ইহুদিদের আধিপত্য বিস্তারের গতি এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের প্রক্রিয়াকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করবে।
মাঠপর্যায়ের বর্তমান চিত্র
ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের ওপর নজর রাখা পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘পিস নাও’-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি অবৈধভাবে বসবাস করছেন।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের বিভিন্ন বসতিতে আরও প্রায় আড়াই লাখ ইসরায়েলি দখলদারের বসবাস রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র আপত্তি ও উদ্বেগ উপেক্ষা করেই বছরের পর বছর ধরে এই বসতি নির্মাণ প্রক্রিয়া সচল রেখেছে ইসরায়েল।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ফিলিস্তিনের অবস্থান
জাতিসংঘ বরাবরই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে এসেছে যে, ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ অবৈধ। বিশ্ব সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন তথা ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ১৯৬৭ সালের ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এবং ১৯৮০ সালে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার একপাক্ষিক সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনিরা শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবিতে তারা এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি