
চরম সামরিক উত্তেজনা এবং একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও তেহরানের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে, সেখান থেকে বড় অংকের মাশুল বা পারিশ্রমিক আদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি মনে করি একটি চুক্তি সম্ভব। অবশ্যই আমি তা মনে করি।’
ট্রাম্প দাবি করেন, মাত্র দুই দিন আগেও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি পারস্পরিক সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছিল। তবে তেহরান আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি স্বাক্ষর থেকে পিছিয়ে যায়।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনার পর ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সেই সাথে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তার একক দায়িত্ব নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এই নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা বাবদ নির্দিষ্ট ফি আদায় করা হবে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করব। সম্ভব হলে এর পরিচালনার দায়িত্বও নেব। আমরা এই প্রণালির অভিভাবক হব এবং এ দায়িত্ব পালনের জন্য আমাদের পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যুক্তি দেন, বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ও ধনী রাষ্ট্র নিজেদের পণ্য পরিবহনে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি ব্যবহার করে থাকে। সুতরাং, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সেবা তারা বিনামূল্যে পেতে পারে না। এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে ওয়াশিংটনের একটি বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া উচিত বলেই মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।