
দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মার্কিন দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে ইসরায়েল ও লেবানন। দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাস্তবে এমন কোনো প্রত্যাহার ঘটেনি; বরং পরিস্থিতি আগের মতোই রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, লেবানন সরকারের প্রতি সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ইসরায়েল তাদের তথাকথিত ‘বাফার জোন’-এর একটি অংশ থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে।
তবে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, ইসরায়েল তাদের নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে কোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহার করেনি এবং এমন পরিকল্পনাও নেই।
একই সুরে কথা বলেছেন লেবাননের সামরিক কর্মকর্তারাও। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বরং সেনা প্রত্যাহারের বিপরীত চিত্রই তুলে ধরছে। ইসরায়েল এখনো ওই এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী কিংবা সাধারণ নাগরিকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
বর্তমানে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত একটি নিরাপত্তা বলয় বা ‘বাফার জোন’ গড়ে তুলেছে। ইসরায়েলের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে লেবানন বলছে, এর ফলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অসংখ্য গ্রাম ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনা মূলত বাফার জোনের বাইরের কিছু এলাকা লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে। তবে এ বিষয়ে বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও সময়সূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
লেবানন চাইছে, ইসরায়েল ধাপে ধাপে পুরো এলাকা থেকে সরে যাওয়ার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিক। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিটি এলাকা আলাদাভাবে আলোচনা করে হস্তান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে কোনো অবস্থান হস্তান্তরের নির্দেশ তারা পাননি। ফলে নিরাপত্তা বলয়ের দক্ষিণে লেবাননের সেনা বা সাধারণ মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও, সেনা প্রত্যাহার ও নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।