
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুর্যোগে আক্রান্ত দেশটির জনগণকে সহায়তা দিতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত, আগ্রহী এবং সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
ভেনিজুয়েলার চলমান পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “ভেনিজুয়েলার মহান জনগণের ওপর এইমাত্র আঘাত হানা দুটি বড় ভূমিকম্পই স্কেলের দিক থেকে অত্যন্ত বিশাল এবং এর ফলে সেখানে ভয়াবহ সংখ্যায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে।”
দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, “আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম!” একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “আমরা আমাদের এই নতুন এবং দুর্দান্ত বন্ধুদের জন্য সেখানে উপস্থিত থাকব।”
যদিও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর দ্রুতই মার্কিন সহায়তা দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হতে পারে।
এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার উত্তরাঞ্চলের ক্যারিবীয় উপকূলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইয়ারাকুই রাজ্যের রাজধানী সান ফেলিপের কাছে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর ইউমারে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী ভূকম্পন আঘাত হানে। ভূবিজ্ঞানীদের মতে, এটি গত ১২৫ বছরের মধ্যে ভেনিজুয়েলায় রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
দুর্যোগের পরপরই ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ বুধবার গভীর রাতে সারা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়।
তবে এ পর্যন্ত কতজন নিহত হয়েছেন বা মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি