
আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পোপের দৃঢ় অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলার তীব্র সমালোচনা করায় পোপ লিওর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ কর্তৃক প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন হামলাকে ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক’ আখ্যা
রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান পোপের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এই হামলার বিরুদ্ধে পোপ একটি “নৈতিক, যৌক্তিক ও ন্যায্য” অবস্থান নিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানের মতে, সম্পূর্ণ মিথ্যা অজুহাত খাড়া করে, আন্তর্জাতিক সব আইন ও রীতিনীতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং কেবল ইসরায়েলকে অন্ধ সমর্থনের অংশ হিসেবে এই নিন্দনীয় হামলাগুলো চালানো হয়েছিল।
পোপ তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন একটি কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলাগুলো পরিচালনা করা হয়।
ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগ’ মন্তব্যের কড়া জবাব
মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের সেই “ইরানের ঐতিহাসিক সভ্যতা ধ্বংস করে একে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার” প্রচ্ছন্ন হুমকির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানান।
ইরানের রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যগুলোকে “বিপজ্জনক ও নির্লজ্জ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এগুলো মূলত “পরম ক্ষমতার বিভ্রম” এবং “অহংকার, উৎপীড়ন ও লাগামহীন সহিংসতা”-ভিত্তিক একটি উগ্র দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, বর্তমান মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসী নীতি শুধু ইরানের নিরাপত্তার জন্যই বড় হুমকি নয়, বরং এটি সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক আইন, চিরন্তন মানবিক মূল্যবোধ এবং সব ধর্মীয় পবিত্র শিক্ষাকেও চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।