
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষই এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে নরম অবস্থান নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে এক পৃষ্ঠার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার শর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে তবে দেশের জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। তিনি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার বৈঠক করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। তিনি বিষয়টিকে সতর্ক আশাবাদ হিসেবে দেখছেন বলে জানানো হয়।
তবে ইরানের ভেতরে মতপার্থক্য স্পষ্ট। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইবরাহিম রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে একতরফা দাবি বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, চাপের মুখে ইরান কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না এবং প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এই আলোচনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দেন, তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অবিশ্বাসও প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার মাঝেই ইরানে হামলা চালানো হয়েছে, যা বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
এদিকে ইসরায়েল এই সমঝোতা প্রচেষ্টাকে সময় নষ্ট হিসেবে দেখছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ইরানে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা প্রায় ১৬০০ জাহাজ বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে শিপিং খাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের একটি সম্ভাব্য পথ খুলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।