
ইরাকের জাতীয় সম্পদ লুট করে ইরান ও ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে ইরাকি উপ-তেলমন্ত্রী আলি মারিজ আল-বাহাদলির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, সরকারি পদের অপব্যবহার করে তিনি অবৈধভাবে তেল পাচারের মাধ্যমে তেহরান ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের বিশাল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে কারণ
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উপ-তেলমন্ত্রী আলি মারিজ আল-বাহাদলি ইরাকের তেল ইরানের সরকার ও তাদের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থে সরিয়ে নিতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ইরাকি তেল অত্যন্ত সুকৌশলে ইরানি তেলের সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির বৈধতা দিয়েছিলেন তিনি। এই বিপুল অর্থ ইরান ও তাদের মিত্রদের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এ প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ইরানের শাসকগোষ্ঠী যেন একটি দুর্বৃত্ত চক্রের মতো ইরাকের জনগণের প্রাপ্য সম্পদ লুট করছে।’
তিনি আরও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘ইরানের সামরিক বাহিনী যাতে ইরাকি তেল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থ জোগাতে না পারে, সে বিষয়ে ট্রেজারি বিভাগ নীরব থাকবে না।’
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপরও খড়গ
উপ-তেলমন্ত্রীর পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত দুই প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী— 'কাতাইব সাইয়িদ আল-শুহাদা' এবং 'আসাইব আহল আল-হাক'-এর তিন শীর্ষ নেতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ট্রেজারি বিভাগের তথ্যমতে, ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনা, কূটনৈতিক মিশন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ক্রমাগত হামলার নেপথ্যে থাকা গোষ্ঠীগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাতাইব হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আর্থিক লেনদেনের পথ আরও সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরাকের সার্বভৌম সম্পদ ব্যবহার করে কেউ যেন আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তারা সব ধরনের আইনি ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা বজায় রাখবে।
তথ্যসূত্র: আল আরাবিয়া।