
ওমান উপসাগর থেকে জব্দ করা একটি ইরানি জাহাজ ও তার নাবিকদের হস্তান্তরের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। একদিকে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করার ঘোষণা, অন্যদিকে জলপথে মার্কিন পা রাখা মাত্রই হামলার হুমকি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে নতুন করে সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
ইরানি জাহাজ ও নাবিক হস্তান্তর
গত ১৯ এপ্রিল ওমান উপসাগর থেকে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক আটক করা এম/ভি টুসকা নামক জাহাজটি এবং এর নাবিকদের পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, ওই জাহাজের ২২ জন নাবিককে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে জাহাজে থাকা আরও ছয়জন যাত্রীকে অন্য একটি আঞ্চলিক দেশে পাঠানো হয়েছিল।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে প্রায় দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালীতে অনেক জাহাজ খাদ্য ও জরুরি রসদ সংকটে আটকা পড়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এসব জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই সাথে সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক একটি বিশেষ সামরিক সহায়তা মিশন শুরু করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ পুনরায় সচল করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতা বজায় রাখা।
ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা
সোমবার (৪ মে) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিফায়েড কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই জলপথের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে।
ইরানের ইউনিফায়েড কমান্ডের প্রধান আলি আবদুল্লাহি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আমাদের হাতেই রয়েছে। জাহাজ চলাচল করতে হলে অবশ্যই সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। যেকোনো বিদেশি বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি এই প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো বিদেশি সামরিক শক্তি, বিশেষ করে মার্কিন সেনাবাহিনী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে ইরান ‘কঠোর জবাব’ দিতে প্রস্তুত।
সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্ব বাণিজ্য
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখোমুখি অবস্থানের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের উদ্ধার মিশন এবং ইরানের হামলার হুমকির ফলে এই অঞ্চলটি এখন একটি বারুদ স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সূত্র: ডন ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম