
পশ্চিম বাংলার রাজনৈতিক ময়দানের সব আলো এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারী—হাইপ্রোফাইল এই দ্বৈরথে প্রতি মুহূর্তেই বদলে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ। কখনো তৃণমূল সুপ্রিমো এগিয়ে যাচ্ছেন, তো পরক্ষণেই গেরুয়া শিবিরের শুভেন্দু অধিকারীর দাপট দেখা যাচ্ছে।
ভোটের অংক: রাউন্ডে রাউন্ডে নাটকীয়তা
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৭ হাজার ২৪৪টি ভোট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। বিপরীতে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীর ঝুলিতে জমা পড়েছে ৮ হাজার ৭৬২টি ভোট।
তবে দিনভর ছিল নানা উত্থান-পতন:
প্রথম রাউন্ড: গণনার শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৬৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১৬৭০। অর্থাৎ, প্রথম রাউন্ড শেষে মমতা ১৯৯৬ ভোটে লিড দেন।
দ্বিতীয় রাউন্ড: দ্বিতীয় রাউন্ডে এসেই পাশা উল্টে যায়। এই ধাপে মমতা পিছিয়ে পড়েন এবং শুভেন্দু অধিকারী ১৫৫৮ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান।
শুভেন্দুর পূর্বাভাস ও নন্দীগ্রাম ফ্যাক্টর
ভোট গণনার এই প্রাথমিক অস্থিরতাকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন শুভেন্দু অধিকারী। সকালে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন যে, লড়াইয়ের আসল রূপ সামনে আসবে আরও পরে। তার মতে, নবম বা দশম রাউন্ডের পরই আসল চিত্র স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য যে, শুভেন্দু অধিকারী এবার কেবল ভবানীপুর নয়, নন্দীগ্রাম আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী নন্দীগ্রামেও তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, তিনি যদি উভয় আসনেই জয়লাভ করেন, তবে তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে সেই আসনে পুনরায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এখনো বেশ কয়েক দফার ভোট গণনা বাকি থাকায় ভবানীপুরের শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।