
নিজ দেশের অভ্যন্তরেই এবার চরম তোপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংস এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার ক্ষুব্ধ নাগরিক।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে তেল আবিবে এই বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সমাজ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষার ডাক
বিক্ষোভকারীদের দাবি, নেতানিয়াহুর অদূরদর্শী নীতি ইসরায়েলি সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "নেতানিয়াহু আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছেন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক নষ্ট করছেন। তার বিরুদ্ধেই রাজপথে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি।"
৭ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তের দাবি
বিক্ষোভের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল গত বছরের ৭ অক্টোবর এবং তার পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন। বিচার বিভাগীয় ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্দোলনকারীরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান। তাদের মতে, "এখানকার মানুষ বর্তমান ও পরবর্তী সরকারের কাছে গত ৭ অক্টোবর ও এর পরবর্তী ঘটনাগুলোর তদন্ত দাবি করছে। কারণ, আমাদের সবারই সত্য জানার অধিকার আছে।"

শোকাতুর পরিবারের পাশে সাধারণ মানুষ
আন্দোলনকারীরা কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং গত কয়েকমাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতেও সমবেত হয়েছিলেন। তারা সাফ জানান, "৭ অক্টোবর এবং এর পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর শুরু করা অন্তহীন যুদ্ধে যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমর্থন জানাতেই তারা এই কর্মসূচিতে এসেছেন।"
ব্যক্তিগত স্বার্থ বনাম জাতীয় স্বার্থ
তেল আবিবের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ছিল নেতানিয়াহুর প্রতি তীব্র অনাস্থা। তাদের অভিযোগ, লেবানন ও ইরানে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া ইসরায়েলের জন্য একটি বড় ভুল ছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে তারা বলেন, "লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ শুরু করে ইসরাইল ভুল করেছে। নেতানিয়াহু দেশের স্বার্থে নয়, বরং জেল থেকে বাঁচতেই এসব করছেন। এতে করে ইসরাইলিদেরই ক্ষতি করছেন নেতানিয়াহু।"
আন্দোলনকারীদের মতে, সম্ভাব্য কারাদণ্ড থেকে বাঁচতেই নেতানিয়াহু যুদ্ধের এই পথ বেছে নিয়েছেন, যা সাধারণ ইসরায়েলিদের জীবনকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। ক্রমবর্ধমান এই গণবিক্ষোভ নেতানিয়াহু সরকারের ওপর স্নায়বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।